২০২৪-এর লক্ষ্যে বিরোধী ঐক্যে শান রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে, পাওয়ার মধ্যমণি করে অঙ্ক তৃণমূলের

২০২৪ এগিয়ে আসছে, কিন্তু বিরোধী ঐক্য এখনও নিখোঁজ। এখনও বিরোধী দলগুলির অবস্থান একে অপরের থেকে শত যোজন দূরে। তবু এর মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্রে করে এক মঞ্চে আসতে চাইছেন বিরোধীরা। বিরোধীরা বিজেপিকে দেখাতে চাইছে তারা কতটা সঙ্ঘবদ্ধ কেন্দ্রের বিরুদ্ধে। শারদ পাওয়ার তাই নিশ্চিত হার জেনেও রাজি রাষ্ট্রপতি পদে।রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এবার কেন্দ্রের শাসকদল বিজেপি তথা এনডিএ প্রার্থীর কপালেই উঠবে বিজয় তিলক। বিরোধীদের হাতে সেই সংখ্যা নেই যে নিয়ে এই নির্বাচন জিততে পারে তারা।

তবু এবার বিরোধীরা একতা দেখাতে চাইছেন। আর এই একতা প্রদর্শনের মঞ্চে বিরোধীরা সামনে রাখতে চাইছেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ শারদ পাওয়ারকে।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উদ্যোগী হয়েছেন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধীদের এক প্রার্থী চয়নের ব্যাপারে। তিনি চান এক প্রার্থীকে সামনে রেখে বিরোধীদের ক্ষমতা দেখিয়ে দিতে। এই মর্মেই এবার দিল্লিতে গিয়ে আপ সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সঙ্গে বৈঠক করে এসেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দাবি জানিয়েছেন, এক প্রার্থীর হয়ে তাঁরা সওয়াল করবেন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে।

আবার সমাজবাদী পার্টি সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পছন্দের প্রার্থীকেই তিনি চোখ বুজে সমর্থন করবেন। সমাজবাদী পার্টি শীঘ্রই এই বিষয়টি অফিসিয়ালি জানিয়ে দেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তবে গতবারের মতো এবার তারা কংগ্রেস মনোনীত প্রার্থীকে সমর্থন করতে নারাজ। সেক্ষেত্রে বিরোধী ঐক্য কী দাঁড়াবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েই যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চেষ্টা করছেন, আপ, টিআরএস, এসপির মতো দলগুলিকে নিয়ে একটা বিরোধী ঐক্য তৈরি করা। আর তাঁর এই উদ্যোগে তিনি শামিল করতে চাইছেন এনসিপি প্রধান শারদ পাওয়ারকে।

 

শার পাওয়ারকে সামনে এনে তাঁকে প্রার্থী করে পুরো বিরোধী শক্তিকে টেনে আনতে চাইছেন তাঁর দিকে। টেনে আনতে চাইছেন কংগ্রেসকেও। আসলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লক্ষ্য কংগ্রেসের দিকে এগিয়ে যাওয়া নয়, কংগ্রেসকে তাদের দিকে টেনে আনা। সেই কারণেই শারদ পাওয়ারকে তিনি ব্যবহার করতে চাইছেন।

*

তাই শারদ পাওয়ারকে তিনি সর্বসম্মত বিরোধী প্রার্থী করার পক্ষপাতী। অঙ্কের হিসেবে তাঁর পরাজয় নিশ্চিত হলেও তিনি চাইছেন প্রার্থী হতে। শারদ পাওয়ার চাইছেন রাষ্ট্রপতি ভোটের মঞ্চে সমস্ত বিরোধী দলের সমর্থন আদায় করে নিতে। তাহলে তাঁর বিজেপি বিরোধী জোট গঠনে ভূমিকা নিতে সুবিধা হবে। এখনও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বাকি আড়াই মাস। এই আড়াই মাসের মধ্যে বিরোধীদের সঙ্ঘবদ্ধ করে তুলতে তিনি অগ্রণী ভূমিকা নেবেন, এ ব্যাপারে আশাবাদী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। শারদ পাওয়ার প্রার্থী হলে কেউই তাঁর নাম খারিজ করতে পারবে না। এমনকী কংগ্রেসও না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!